Tue. Mar 3rd, 2026

বিশ্ব উষ্ণতার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক ‘স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এরোসল ইঞ্জেকশন’ বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি

অনাকাঙ্খিত দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে ক্রমশই৷ প্রতি বছরই একটু একটু করে বাড়ছে উষ্ণায়নের মাত্রা৷ এমতাবস্থায় ভবিষ্যতের জটিল প্রযুক্তি বা কোটি কোটি ডলারের গবেষণা ব্যতিরেকে উষ্ণায়নের মাত্রা কিভাবে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এ বিষয়ে নতুন পথের সন্ধান দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা৷ তাদের গবেষণায়, পৃথিবীর উষ্ণতা কমানোর জন্য বর্তমানে ব্যবহৃত বোয়িং ৭৭৭ এর মতো বড় কার্গো বিমান দিয়েই কাজটা করা সম্ভব৷ এর জন্য প্রয়োজন বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টন সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস৷ এসব গ্যাস বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া হলে সূর্য্যের আলো তাতে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে কম আসবে, সেইসঙ্গে কমবে গড় তাপমাত্রাও৷ এই কৌশলটির নাম স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এরোসল ইঞ্জেকশন বা এসএআই৷ এটি আসলে একটি জিওইঞ্জিনীয়ারিং বা ভূ-প্রকৌশল পদ্ধতি, যেখানে কৃত্রিমভাবে বায়ুমণ্ডলে গ্যাসীয় কণা ছড়িয়ে দিয়ে সূর্যালোককে প্রতিফলিত করা যেতে পারে৷ গবেষণায় জানা গেছে, এই পদ্ধতিতে গড় বিশ্ব ঊষ্ণতা প্রায় ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১.১ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত কমানো সম্ভব৷ বোয়িং ৭৭৭-এর মতো কার্গো বিমান দিয়েই প্রায় ১৩ কিলোমিটার উচ্চতায় সালফার ডাই অক্সাইড ছড়ানো সম্ভব, বিশেষ করে পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের নিকটবর্তী স্থানে৷

চিত্র সৌজন্যে : অন্তর্জাল

তবে বিজ্ঞানীরা এই পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে আলোকপাত করেছেন৷ যেহেতু ভূপৃষ্ঠ থেকে এই স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে নীচু, সেহেতু সালফার ডাই অক্সাইডের গ্যাসীয় কণাগুলো বেশি দিন বায়ুমণ্ডলে টিকবে না৷ তাই ক্রমাগত এই প্রক্রিয়ার প্রভাব টিকিয়ে রাখতে পূর্বের পরিকল্পনার চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি সালফার ডাই অক্সাইড ব্যবহার করতে হবে৷ অতীতে ১৯৯১ সালে ফিলিপাইনের মাউন্ট পিনাটুবো আগ্নেয়গিরির অগ্নু্যৎপাতেও ঠিক এইরকম প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর উষ্ণতা কিছুটা কমে গিয়েছিল৷ তবে বিজ্ঞানীরা অ্যাসিড বৃষ্টি, মাটি ও জলদূষণ, বিশেষত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে কার্যকারিতা কমে যাওয়া, পরিবেশের উপর কিছু ভয়াবহ বিরূপ প্রভাবের বিষয়ের জানিয়েছেন৷ এছাড়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই কার্বন নিঃসরণ কমানো যাবে না৷ তার চেয়ে এটি সাময়িক ও নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবস্থা হতে পারে, যা মূল পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি প্রয়োগযোগ্য৷ তবে খুব কম খরচে এবং উপলব্ধ প্রযুক্তির মাধ্যমেই জিওইঞ্জিনীয়ারিং-এর পথে বিশ্বের উষ্ণতা কমানোর বাস্তব প্রয়োগ করা যেতে পারে৷

By Sangbad Hate Bazare

“Sangbad Hate Bazare”—”News in the Marketplace”—is more than just a name. It is a commitment to bringing authentic, accessible, and people-centric journalism to the digital streets of Bengal and beyond. Inspired by the ethos of public discourse and open conversation, we present news that’s as diverse and dynamic as the society we serve. Operating under the digital identity “ehatebazare”, our platform is built for the Bengali-speaking global audience. Whether you are in Kolkata, Siliguri, Dhaka, London, or New York, if you speak Bengali, we are your home for news and insights.

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *