Site icon Sangbad Hate Bazare

বিশ্ব উষ্ণতার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক ‘স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এরোসল ইঞ্জেকশন’ বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি

অনাকাঙ্খিত দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে ক্রমশই৷ প্রতি বছরই একটু একটু করে বাড়ছে উষ্ণায়নের মাত্রা৷ এমতাবস্থায় ভবিষ্যতের জটিল প্রযুক্তি বা কোটি কোটি ডলারের গবেষণা ব্যতিরেকে উষ্ণায়নের মাত্রা কিভাবে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এ বিষয়ে নতুন পথের সন্ধান দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা৷ তাদের গবেষণায়, পৃথিবীর উষ্ণতা কমানোর জন্য বর্তমানে ব্যবহৃত বোয়িং ৭৭৭ এর মতো বড় কার্গো বিমান দিয়েই কাজটা করা সম্ভব৷ এর জন্য প্রয়োজন বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টন সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস৷ এসব গ্যাস বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া হলে সূর্য্যের আলো তাতে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে কম আসবে, সেইসঙ্গে কমবে গড় তাপমাত্রাও৷ এই কৌশলটির নাম স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এরোসল ইঞ্জেকশন বা এসএআই৷ এটি আসলে একটি জিওইঞ্জিনীয়ারিং বা ভূ-প্রকৌশল পদ্ধতি, যেখানে কৃত্রিমভাবে বায়ুমণ্ডলে গ্যাসীয় কণা ছড়িয়ে দিয়ে সূর্যালোককে প্রতিফলিত করা যেতে পারে৷ গবেষণায় জানা গেছে, এই পদ্ধতিতে গড় বিশ্ব ঊষ্ণতা প্রায় ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১.১ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত কমানো সম্ভব৷ বোয়িং ৭৭৭-এর মতো কার্গো বিমান দিয়েই প্রায় ১৩ কিলোমিটার উচ্চতায় সালফার ডাই অক্সাইড ছড়ানো সম্ভব, বিশেষ করে পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের নিকটবর্তী স্থানে৷

চিত্র সৌজন্যে : অন্তর্জাল

তবে বিজ্ঞানীরা এই পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে আলোকপাত করেছেন৷ যেহেতু ভূপৃষ্ঠ থেকে এই স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে নীচু, সেহেতু সালফার ডাই অক্সাইডের গ্যাসীয় কণাগুলো বেশি দিন বায়ুমণ্ডলে টিকবে না৷ তাই ক্রমাগত এই প্রক্রিয়ার প্রভাব টিকিয়ে রাখতে পূর্বের পরিকল্পনার চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি সালফার ডাই অক্সাইড ব্যবহার করতে হবে৷ অতীতে ১৯৯১ সালে ফিলিপাইনের মাউন্ট পিনাটুবো আগ্নেয়গিরির অগ্নু্যৎপাতেও ঠিক এইরকম প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর উষ্ণতা কিছুটা কমে গিয়েছিল৷ তবে বিজ্ঞানীরা অ্যাসিড বৃষ্টি, মাটি ও জলদূষণ, বিশেষত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে কার্যকারিতা কমে যাওয়া, পরিবেশের উপর কিছু ভয়াবহ বিরূপ প্রভাবের বিষয়ের জানিয়েছেন৷ এছাড়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই কার্বন নিঃসরণ কমানো যাবে না৷ তার চেয়ে এটি সাময়িক ও নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবস্থা হতে পারে, যা মূল পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি প্রয়োগযোগ্য৷ তবে খুব কম খরচে এবং উপলব্ধ প্রযুক্তির মাধ্যমেই জিওইঞ্জিনীয়ারিং-এর পথে বিশ্বের উষ্ণতা কমানোর বাস্তব প্রয়োগ করা যেতে পারে৷

Exit mobile version