মাঝগঙ্গায় ইফতার পার্টিকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কে উত্তাল বারাণসী। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, পবিত্র গঙ্গা নদীর মাঝখানে নৌকায় বসে একদল ব্যক্তি ইফতার করছেন এবং চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার পর উচ্ছিষ্ট সরাসরি নদীতে ফেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। এই ভিডিও সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা, যারা এটিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত এবং গঙ্গার পবিত্রতার অবমাননা বলে দাবি করে। সংগঠনের তরফে কোতোয়ালি থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়, যেখানে বলা হয়—গঙ্গা শুধুমাত্র একটি নদী নয়, কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক; সেই নদীর বুকে এমন আচরণ সম্পূর্ণ অশোভন ও অসম্মানজনক।
অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে (প্রাথমিকভাবে সংখ্যাটি ১৫ বলা হলেও পরে সংশোধন করা হয়)। তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, গোষ্ঠী বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা, জনসমক্ষে অশোভন আচরণ এবং নদী দূষণের মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। বারাণসীর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিজয় প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, এটি ধর্মীয় সংবেদনশীলতার গুরুতর লঙ্ঘন, অন্যদিকে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—এই ঘটনাকে কি অতিরিক্ত রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে? তবে বিশেষজ্ঞদের মত, গঙ্গার মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ নদীতে যে কোনও ধরনের দূষণ বা অসম্মানজনক আচরণ সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা, পরিবেশ রক্ষা এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের ভারসাম্য—এই তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

