Thu. Mar 19th, 2026

হাইওয়ে যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম! ফাস্টট্যাগ পাসের দাম বাড়ল, পুরো দেশেই ক্যাশলেস টোলিং

ভারতের জাতীয় সড়কে যাতায়াত আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)৷ যাত্রীদের সুবিধা ও নিয়মিত হাইওয়ে ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত গাড়ি চালকদের কথা মাথায় রেখে গত বছরের আগস্ট মাসে চালু করা হয়েছিল ‘ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাস (FASTag Annual Pass)’৷ এই পাসের মূল উদ্দেশ্য ছিল বারবার টোল ট্যাক্স দেওয়ার ঝামেলা কমানো, সময় বাঁচানো এবং ডিজিটাল টোলিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা৷ কিন্ত্ত সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি – বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের উপর পড়ায় তার ঢেউ এসে পৌঁছেছে ভারতেও৷ ফলে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ার পরপরই ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাসের মূল্যও সামান্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

## ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাসের নতুন মূল্য কত?

সম্প্রতিন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া-এর পক্ষ থেকে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে যে, ‘ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০৭৫ টাকা’৷ আগে এই পাসের দাম ছিল ৩০০০ টাকা৷ অর্থাৎ এক ধাক্কায় ৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এই বার্ষিক পাসের মূল্য৷ নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে৷

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল-এই বাড়তি ফি ‘শুধুমাত্র নন-কমার্শিয়াল বা ব্যক্তিগত গাড়ির জন্যই প্রযোজ্য’৷ অর্থাৎ যেসব গাড়ি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য জাতীয় সড়কে নিয়মিত চলাচল করে, তাদের মালিকদেরই এখন থেকে এই বাড়তি টাকা দিতে হবে৷ বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট বার্ষিক পাসের নিয়ম প্রযোজ্য নয়৷

## কেন চালু করা হয়েছিল ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাস?

ভারতে হাইওয়ে ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে বেশ কয়েক বছর ধরেই ফাস্টট্যাগ প্রযুক্তি চালু রয়েছে৷ এর মাধ্যমে টোল প্লাজায় গাড়ি থামিয়ে নগদ টাকা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না৷ গাড়ির উইন্ডশিল্ডে লাগানো একটি আরএফআইডি ট্যাগের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেওয়া হয়৷

কিন্ত্ত অনেক গাড়িচালক – বিশেষ করে যারা প্রতিদিন বা প্রায় প্রতিদিন জাতীয় সড়ক ব্যবহার করেন – তাদের জন্য বারবার টোল কাটা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছিল৷ সেই সমস্যা সমাধানের জন্যই গত বছরের আগস্ট মাসে চালু করা হয় ‘ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাস’

এই পাসের মাধ্যমে গাড়িচালকরা এককালীন নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে বছরের নির্দিষ্ট সংখ্যক টোল ব্যবহার করতে পারেন৷ ফলে প্রতিবার টোল প্লাজা পার হওয়ার সময় আলাদা করে টোল ট্যাক্স কাটা নিয়ে ভাবতে হয় না৷

## বার্ষিক পাসের মেয়াদ ও ব্যবহার সীমা

ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে, যা জানা থাকলে গাড়িচালকদের জন্য এটি আরও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে৷

১. বৈধতা :
এই বার্ষিক পাসের মেয়াদ ‘এক বছর’৷ অর্থাৎ পাস সক্রিয় হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ১২ মাস পর্যন্ত এটি ব্যবহার করা যাবে৷

২. টোল ব্যবহারের সীমা :
একজন চালক এই পাসের মাধ্যমে সর্বাধিক ‘২০০টি টোল প্লাজা পারাপার করতে পারবেন’৷

৩. সীমা শেষ হলে কী করবেন :
২০০ বার ব্যবহার শেষ হয়ে গেলে আবার পাস রিচার্জ করতে হবে৷

৪. কোথা থেকে রিচার্জ করবেন :
পুনরায় রিচার্জ করা যাবে –

* রাজমার্গ যাত্রা অ্যাপের মাধ্যমে
* অথবা ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া-এর সরকারি ওয়েবসাইট থেকে৷

## কত মানুষ ব্যবহার করছেন ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাস?

কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ভারতে ‘৫০ লক্ষেরও বেশি গাড়ির মালিক’ ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাস ব্যবহার করছেন৷ প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যানবাহন দেশের বিভিন্ন জাতীয় সড়কে চলাচল করে৷ ফলে টোল প্লাজায় যানজট কমানো ও সময় বাঁচানোর ক্ষেত্রে এই পাস একটি বড় ভূমিকা পালন করছে৷

বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রতিদিন অফিস, ব্যবসা বা লজিস্টিক কাজে জাতীয় সড়ক ব্যবহার করেন, তাদের কাছে এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক একটি ব্যবস্থা৷

## ১ এপ্রিল থেকে টোল প্লাজায় আর নগদ লেনদেন নয়

ফাস্টট্যাগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ মিনিস্ট্রি অফ রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়েজ-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশের সমস্ত জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজায় নগদ লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে’

অর্থাৎ টোল ট্যাক্স দেওয়ার জন্য তখন থেকে কেবলমাত্র দুইটি ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে –

* ফাস্টট্যাগ
* ইউপিআই (UPI)

৩১ মার্চ পর্যন্ত নগদ লেনদেন চলবে৷ এরপর থেকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল টোলিং ব্যবস্থায় চলে যাবে দেশ৷

## কেন চালু হচ্ছে ক্যাশলেস টোলিং?

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রকের মতে, ‘ক্যাশলেস টোলিং ব্যবস্থা অনেক বেশি দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য’৷ এর ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাবে –

#১. যানজট কমবে
টোল প্লাজায় গাড়ি থামিয়ে নগদ লেনদেনের কারণে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়৷ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সমস্যা কমবে৷

#২. সময় বাঁচবে
ফাস্টট্যাগ স্ক্যান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি চলে যেতে পারবে৷

#৩. জ্বালানি সাশ্রয় হবে
টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় গাড়ির জ্বালানি খরচ হয়৷ অপেক্ষার সময় কমলে জ্বালানি খরচও কমবে৷

#৪. দুর্নীতি কমবে
ডিজিটাল লেনদেনের ফলে অর্থের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং মানবিক ত্রুটির সম্ভাবনাও কমবে৷

## ফাস্টট্যাগ কীভাবে কাজ করে?

ফাস্টট্যাগ একটি ‘আরএফআইডি (Radio Frequency Identification)’ প্রযুক্তিনির্ভর স্টিকার, যা গাড়ির সামনে কাচে লাগানো থাকে৷ যখন গাড়ি টোল প্লাজার সেন্সরের কাছে পৌঁছায়, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল ট্যাক্স কেটে নেওয়া হয় ফাস্টট্যাগ অ্যাকাউন্ট থেকে৷

এই অ্যাকাউন্ট সাধারণত যুক্ত থাকে –

* ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
* প্রিপেইড ওয়ালেট
* অথবা ফাস্টট্যাগ ওয়ালেটের সঙ্গে

## বর্তমান জ্বালানির দাম (ভারত – ২০২৬ সালের আনুমানিক গড় মূল্য)

বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে ভারতে জ্বালানির দামও ওঠানামা করছে৷ বর্তমানে বিভিন্ন শহরে গড় হিসেবে –

* পেট্রোল : প্রায় টা.১০৪ – টা.১১০ প্রতি লিটার
* ডিজেল : প্রায় টা.৯২ – টা.৯৮ প্রতি লিটার
* এলপিজি গ্যাস (১৪.২ কেজি সিলিন্ডার) : প্রায় টা.৯০০ – টা.১,০৫০

এই পরিস্থিতিতে পরিবহন খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে টোল ব্যবস্থাতেও৷

## ফাস্টট্যাগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভারতের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে সরকার ভবিষ্যতে আরও কিছু প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করছে৷

সম্ভাব্য উদ্যোগগুলির মধ্যে রয়েছে –

* GPS ভিত্তিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা
* সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় টোল প্লাজা
* হাইওয়ে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
* স্মার্ট টোলিং ডেটা অ্যানালিটিক্স

এই প্রযুক্তিগুলি চালু হলে ভবিষ্যতে হয়তো টোল প্লাজায় গাড়ি থামানোর প্রয়োজনই থাকবে না৷

## সাধারণ যাত্রীদের জন্য কী বার্তা?

ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাসের মূল্য বৃদ্ধি খুব বড় অঙ্ক না হলেও এটি হাইওয়ে ব্যবহারকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন৷ বিশেষ করে যারা নিয়মিত জাতীয় সড়কে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এই পাস এখনও অনেক ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও সময় বাঁচানো একটি বিকল্প৷

১ মার্চ থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ায় যারা এখনও পাস নেননি, তারা নতুন রেটে পাস নিতে পারবেন৷ আর ১ এপ্রিল থেকে নগদ লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ফাস্টট্যাগ বা ইউপিআই ব্যবহার করা প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে৷

সব মিলিয়ে বলা যায়, ভারতের হাইওয়ে টোলিং ব্যবস্থা দ্রুত ‘ডিজিটাল, ক্যাশলেস এবং প্রযুক্তিনির্ভর’ হয়ে উঠছে৷ যাত্রীদের সময় বাঁচানো, যানজট কমানো এবং স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য৷

By Sangbad Hate Bazare

“Sangbad Hate Bazare”—”News in the Marketplace”—is more than just a name. It is a commitment to bringing authentic, accessible, and people-centric journalism to the digital streets of Bengal and beyond. Inspired by the ethos of public discourse and open conversation, we present news that’s as diverse and dynamic as the society we serve. Operating under the digital identity “ehatebazare”, our platform is built for the Bengali-speaking global audience. Whether you are in Kolkata, Siliguri, Dhaka, London, or New York, if you speak Bengali, we are your home for news and insights.

Related Post

Leave a Reply