Sun. Mar 22nd, 2026

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ? বড় স্বস্তি! অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনে অনলাইন-অফলাইনে আবেদন, নাম ফেরাতে নতুন ব্যবস্থা চালু

ভোটের কাউন্টডাউন শুরু, আর তার মাঝেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভোটার তালিকা নিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। ঠিক এই পরিস্থিতিতে বড় পদক্ষেপ নিল Election Commission of India—ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া বা ‘বিচারাধীন’ থাকা নাগরিকদের জন্য গঠন করা হল পৃথক ‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল’। Supreme Court of India-এর নির্দেশ মেনে তৈরি এই ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, কারণ লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই ব্যবস্থার উপর। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই এই ইস্যু হয়ে উঠছে ভোট রাজনীতির অন্যতম বড় ফ্যাক্টর।

প্রথমত, সমস্যার গভীরতা বোঝা জরুরি। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে। যদিও তার মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার নাম ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সেগুলি খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হতে চলেছে, তবুও বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম এখনও ঝুলে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। ভোটের আগে নিজের নাম তালিকায় থাকবে কি না—এই প্রশ্ন এখন বহু পরিবারের প্রধান চিন্তার কারণ।

দ্বিতীয়ত, এই উদ্বেগ দূর করতেই গড়ে তোলা হয়েছে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল। সহজ ভাষায়, যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁরা এই ট্রাইব্যুনালের কাছে আপিল জানাতে পারবেন। অর্থাৎ, এটি একটি দ্বিতীয় সুযোগ—যেখানে ভোটাধিকার রক্ষার জন্য নাগরিকরা আইনি পথ অবলম্বন করতে পারবেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভোটাধিকার একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত।

তৃতীয়ত, এই ট্রাইব্যুনালের গঠনও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে এই বিশেষ প্যানেল তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন T. S. Sivagnanam, Biswajit Basu, Ranjit Kumar Bag এবং Samapti Chatterjee-এর মতো বিশিষ্ট বিচারপতিরা। ফলে এই ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চতুর্থত, আবেদন প্রক্রিয়াটিকে সহজ এবং সবার নাগালের মধ্যে রাখতে দ্বিমুখী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে—অনলাইন এবং অফলাইন। অনলাইনে আবেদন করার জন্য ব্যবহার করা যাবে ECI NET মোবাইল অ্যাপ অথবা কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। অন্যদিকে, যাঁরা ডিজিটাল মাধ্যমে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁরা সরাসরি জেলাশাসক (DM), অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) বা মহকুমাশাসক (SDO)-এর দফতরে গিয়ে অফলাইনে আবেদন জমা দিতে পারবেন। এই ব্যবস্থা গ্রাম থেকে শহর—সব স্তরের মানুষের জন্য সুবিধাজনক।

পঞ্চমত, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে তখনই, যখন ৬০ লক্ষ বিচারাধীন নামের সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। অর্থাৎ, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই বোঝা যাবে কার নাম বাদ পড়েছে, এবং তার পরেই তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ষষ্ঠত, এই ট্রাইব্যুনালের কাজও ধাপে ধাপে শেষ হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার সমস্ত আপিল নিষ্পত্তি হয়ে গেলে সেই জেলার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা—শুধুমাত্র এই বিশেষ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

সপ্তমত, এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট। বাংলায় চলা ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়। এই ইস্যুতে মামলা দায়ের করেন Mamata Banerjee নিজেও। সেই মামলার শুনানিতেই Supreme Court of India নির্দেশ দেয়, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি স্বাধীন অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।

অষ্টমত, এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাবও কম নয়। ভোটের আগে যদি বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ে, তাহলে তা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই ট্রাইব্যুনাল একদিকে যেমন আইনি সুরক্ষা দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

নবমত, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে—এই ট্রাইব্যুনাল একটি বড় আশার আলো। কারণ অনেক সময় প্রশাসনিক ভুল, তথ্যগত ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নাম বাদ পড়ে যায়। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ মিলবে, যা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।

দশমত, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও এই ধরনের মডেল চালু হতে পারে। কারণ ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যে কোনও গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন নিঃসন্দেহে একটি বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন নজর থাকবে—কত দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, কতজন মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পান, এবং শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ কতটা প্রভাব ফেলে আসন্ন নির্বাচনের উপর। এক কথায়, এই ট্রাইব্যুনাল এখন বাংলার ভোট রাজনীতির অন্যতম ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে চলেছে।


Discover more from Sangbad Hate Bazare

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

By Sangbad Hate Bazare

“Sangbad Hate Bazare”—”News in the Marketplace”—is more than just a name. It is a commitment to bringing authentic, accessible, and people-centric journalism to the digital streets of Bengal and beyond. Inspired by the ethos of public discourse and open conversation, we present news that’s as diverse and dynamic as the society we serve. Operating under the digital identity “ehatebazare”, our platform is built for the Bengali-speaking global audience. Whether you are in Kolkata, Siliguri, Dhaka, London, or New York, if you speak Bengali, we are your home for news and insights.

Related Post

Leave a Reply

Discover more from Sangbad Hate Bazare

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading