Fri. Mar 27th, 2026

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঝড়-বৃষ্টির জেরে বিমান সফর বাতিল! সড়ক পথে অন্ডাল যাচ্ছেন মমতা

দুর্যোগের জেরে আকাশপথে বড়সড় ‘বিভ্রাট’, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরসূচিতে—এই ঘটনাই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কার্যত বিপর্যস্ত আকাশপথ, ফলে বাতিল করতে হল তাঁর নির্ধারিত বিমান সফর। পরিবর্তে আজ, শুক্রবার বিকেলে সড়ক পথেই অন্ডালের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি। যদিও আজ কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি রাখা হয়নি, তবে আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার রানিগঞ্জে তাঁর জনসভা ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তা শুধু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেই প্রভাবিত করছে না, বরং ভিআইপি চলাচল ও প্রশাসনিক পরিকল্পনাকেও যে কতটা নাড়িয়ে দিতে পারে, তারই বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই ঘটনা।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছিল ঝড়-বৃষ্টি, সঙ্গে ছিল দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের আশঙ্কা। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই দুপুর ৩টে ৩৯ মিনিট নাগাদ অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যেই অর্থাৎ ৩টে ৫৫ মিনিটে দমদম বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল তাঁর বিমান। কিন্তু বাস্তবে ঘটে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। কলকাতার আকাশে পৌঁছনোর আগেই শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, দমকা হাওয়ার দাপটে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটির নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হয়নি, ফলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে মাঝ আকাশেই চক্কর কাটতে বাধ্য হয় সেটি। শেষমেশ বিকেল ৫টা ১৮ মিনিট নাগাদ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে দমদম বিমানবন্দরে অবতরণ করে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনে প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে।

এই অভিজ্ঞতার পরেই প্রশাসন আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি। আবহাওয়া দফতরের তরফে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে যে, শুক্রবারও রাজ্যের একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব চলবে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে প্রবল ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই আজকের আকাশপথের সফর বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে সড়ক পথকে বেছে নেওয়া হয়েছে তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হিসেবে। সূত্রের খবর, বিকেলে কলকাতা থেকে অন্ডালের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাতে সম্ভবত দুর্গাপুরেই থাকবেন। এরপর শনিবার রানিগঞ্জে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় অংশ নেবেন তিনি, যেখানে আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুরো ঘটনাটি একদিকে যেমন আবহাওয়ার ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দ্রুততা ও বাস্তবতার প্রতিফলনও তুলে ধরছে। কারণ, এমন পরিস্থিতিতে বিমান সফর চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত। তাই সময়মতো সিদ্ধান্ত বদল করে সড়ক পথে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা নিরাপত্তার দিক থেকে অনেকটাই সঠিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ছে—বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরনো এবং আবহাওয়ার সতর্কতা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে আসছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ এবং ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলেই দ্রুত বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে এবং বিকেল গড়ালেই তা ঝড়-বৃষ্টির রূপ নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেই পূর্বাভাস। ফলে শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয়, রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কাজ, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়তে বাধ্য।

কালবৈশাখীর এই দাপট শুধুমাত্র একটি আবহাওয়ার ঘটনা নয়, বরং তা রাজ্যের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিমান সফর বাতিল হয়ে সড়ক পথে যাত্রার সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর প্রভাবেরই একটি প্রতিচ্ছবি। এখন সবার নজর আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার দিকে—কতদিন চলবে এই দুর্যোগ, আর তার মধ্যে কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখা যায়, সেটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Related Post

Leave a Reply