রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দিতে চালু হওয়া যুবসাথী (Yuva Sathi) প্রকল্প নিয়ে বড় নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য বাজেটে ঘোষিত এই প্রকল্প অনুযায়ী যোগ্য আবেদনকারীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী চলতি মাস থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যুবসাথীর টাকা জমা পড়া শুরু হয়েছে। তবে অনেক আবেদনকারীর অভিযোগ, তাঁদের মোবাইলে টাকা পাঠানোর মেসেজ এসেছে এবং অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস ‘সাকসেসফুল’ দেখাচ্ছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা ঢোকেনি। এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নবান্নে বৃহস্পতিবার একটি প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যেসব উপভোক্তা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যাচাই করে সব আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে ভাতা পৌঁছে দিতে। সূত্রের খবর, রাজ্যে শিগগিরই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে এবং তখন আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হবে। সেই কারণে বিভিন্ন নতুন প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যের খেতমজুরদের আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত কাজও দ্রুত শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের অন্য কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা এই ভাতা পাবেন না। প্রথমে ঘোষণা করা হয়েছিল যে এপ্রিল মাস থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। কিন্তু পরবর্তীতে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে আন্দোলনের সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান, এপ্রিলের আগেই অর্থাৎ ৭ মার্চ থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর ধরে প্রতি মাসে এই ভাতা দেওয়া হবে। এরপরও যদি কোনও আবেদনকারী বেকার থাকেন, তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে রাজ্যের অধিকাংশ আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গেছে এবং তাঁরা এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা জমা পড়েনি, তাঁদের অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখে সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে বাকি আবেদনকারীরাও শীঘ্রই ভাতা পাবেন বলে আশা করছেন।

