Site icon Sangbad Hate Bazare

‘ধুরন্ধর ২’ হিট, ‘কান্তারা’ মন্তব্যে বিপদ! রণবীরের বিরুদ্ধে মামলা, সামনে বড় শুনানি

বলিউডে জোরদার প্রত্যাবর্তন, বক্স অফিসে ঝড়—সবকিছুর মাঝেই হঠাৎ আইনি জটে জড়িয়ে পড়লেন রণবীর সিং। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর দাপুটে সাফল্যের মধ্যেই এখন শিরোনামে তাঁর বিতর্ক, আর সেই বিতর্ক ঘিরেই নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে বিনোদন জগতে। একদিকে যখন ছবির সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ভক্তরা, অন্যদিকে কর্ণাটক হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেতা—এই দ্বৈত পরিস্থিতিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বরে, যখন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘ইফি’র মঞ্চে ‘কান্তারা’ ছবির একটি দৃশ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঋষভ শেট্টির বিখ্যাত ‘দৈব নৃত্য’কে ভুলভাবে ‘ভূত’ বলে উল্লেখ করেন রণবীর। সেই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং কর্ণাটকের তুলু সম্প্রদায়ের একাংশ তা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হিসেবে দেখেন। ফলাফল—এফআইআর, ফৌজদারি মামলা এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিস্থিতি।

এই ইস্যুতে শুরু থেকেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন রণবীর। তাঁর দাবি, তিনি আসলে ঋষভ শেট্টির অভিনয়ের প্রশংসা করতেই চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবুও পরিস্থিতি যে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা বুঝতে পেরেই এবার আরও নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন অভিনেতা। সূত্রের খবর, কর্ণাটক হাইকোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়ে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে চলেছেন। শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রণবীর—মহীশূরের বিখ্যাত চামুণ্ডী মন্দিরে গিয়ে সরাসরি ক্ষমা চাওয়ার কথাও আদালতে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। কারণ প্রতিপক্ষের আইনজীবীর দাবি ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চাইলেও সরাসরি বা মৌখিকভাবে ক্ষমা চাননি অভিনেতা। সেই প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে আদালতের পর্যবেক্ষণও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। বিচারপতি এম নাগপ্রসন্নের বেঞ্চ রণবীরকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে জানায়, জনসমক্ষে মন্তব্য করার আগে তারকাদের অনেক বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। আদালত স্পষ্ট করে দেয়—মিমিক্রি বা বিনোদনের নামে কোনওভাবেই ধর্মীয় বিশ্বাস বা দেবদেবীকে নিয়ে ঠাট্টা করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে একজন জনপ্রিয় তারকা হিসেবে রণবীরের বক্তব্য বহু মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে, তাই তাঁর আরও সচেতন থাকা প্রয়োজন ছিল। আদালতের এই মন্তব্য কার্যত সেলিব্রিটিদের সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকটি নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই বিতর্কের মধ্যে উঠে এসেছে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রশ্ন। কর্ণাটকের স্থানীয় ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান জানানো নিয়ে আদালত যে মন্তব্য করেছে, তা শুধু রণবীর নয়, গোটা বিনোদন জগতের জন্যই এক বড় বার্তা। বিশেষ করে যখন তাঁর স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন নিজে কর্ণাটকের মেয়ে, তখন এই ধরনের মন্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল—এই মন্তব্যও আদালতের তরফে উঠে এসেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু আইনি লড়াই নয়, বরং সাংস্কৃতিক সম্মান ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

এরই মাঝে রণবীরের আগের ক্ষমা প্রার্থনার কথাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি জানেন, ‘কান্তারা’-র মতো দৃশ্যে অভিনয় করা কতটা কঠিন এবং তিনি ঋষভ শেট্টির পারফরম্যান্সকে শ্রদ্ধা করেই মন্তব্য করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি সবসময় দেশের বিভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করেছেন বলেও দাবি করেন। তবে যদি তাঁর কথায় কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তাহলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত—এই বার্তাও দেন। কিন্তু সেই ক্ষমা প্রার্থনা বিতর্ক থামাতে পারেনি। তাই এবার আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে সরাসরি ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা।

এই ঘটনাকে ঘিরে বিনোদন মহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একাংশ মনে করছেন, রণবীরের মন্তব্য অনিচ্ছাকৃত হলেও, একজন তারকা হিসেবে তাঁর আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে, অনেকেই বলছেন, বিষয়টি অযথা বড় করা হয়েছে। তবে আইনের চোখে বিষয়টি কতটা গুরুতর, তা নির্ধারণ করবে আদালতই। আগামী ১০ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে, আর সেই দিনই স্পষ্ট হবে রণবীরের এই ক্ষমা প্রার্থনা আইনি জট কাটাতে কতটা কার্যকর হয়।

সব মিলিয়ে, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সাফল্যের মধ্যেই রণবীর সিংয়ের এই বিতর্ক যেন বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ার এক অন্য বাস্তবতাকে সামনে এনে দিল। যেখানে একদিকে তারকাদের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে তাঁদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি মন্তব্য বিচারাধীন হয়ে উঠতে পারে মুহূর্তের মধ্যে। এই ঘটনাই আবার প্রমাণ করল—খ্যাতির সঙ্গে দায়িত্বও সমানভাবে বেড়ে যায়। আর সেই দায়িত্ব সামলাতে না পারলে, সাফল্যের মাঝেও তৈরি হতে পারে বড় সংকট।

Exit mobile version