Site icon Sangbad Hate Bazare

চিন বিতর্কের মাঝেই নাম পরিবর্তন! সলমনের ‘গালওয়ান’ ছবির নতুন পরিচয়

বলিউডের সুপারস্টার সলমন খান-এর নতুন দেশাত্মবোধক অ্যাকশন ছবি ঘিরে ইতিমধ্যেই তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে৷ প্রথমে ছবিটির নাম ঘোষণা করা হয়েছিল ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ (Battle of Galwan), তবে মুক্তির আগে আচমকাই বদলে গেল সেই নাম৷ নির্মাতারা এখন ছবিটিকে নতুন শিরোনাম ‘Matribhumi : May War Rest in Peace’ নামে বড়পর্দায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ আগামী ১৭ এপ্রিল ছবিটির মুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে, আর সেই দিনটির অপেক্ষায় এখন অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন ভক্তরা৷ বলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই দেশাত্মবোধক ও সামরিক পটভূমির ছবির জনপ্রিয়তা রয়েছে, আর সলমন খানের মতো বড় তারকা যখন এমন একটি বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি ছবিতে অভিনয় করেন, তখন দর্শকের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বহুগুণ বেডে় যায়৷ ছবির নাম পরিবর্তনের পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়, কারণ নির্মাতা বা প্রযোজনা সংস্থা এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি৷ তবে অনেকেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিতর্ক এড়াতেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

এই ছবির কাহিনি অনুপ্রাণিত হয়েছে ‘২০২০ গালওয়ান ভ্যালি ক্ল্যাশ’-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যা ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়৷ ২০২০ সালের জুন মাসে লাদাখের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল ‘গালওয়ান ভ্যালিতে ভারতীয় ও চিনা সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে বহু জওয়ান প্রাণ হারান৷ সেই ঘটনার নায়ক হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল বিক্কুমাল্লা সন্তোষ বাবুর নাম ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য৷ ছবিতে এই সাহসী সেনা অফিসারের চরিত্রেই অভিনয় করছেন সলমন খান৷ বাস্তব জীবনের এই বীরত্বগাথাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে অভিনেতাকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে হয়েছে৷ জানা গেছে, শুটিং শুরু হওয়ার আগে তিনি কঠোর শারীরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, নিয়মিত প্রেশার চেম্বারে অনুশীলন করেছেন এবং নিজের খাদ্যাভ্যাসেও বড় পরিবর্তন এনেছেন, যাতে একজন সেনা অফিসারের শারীরিক গঠন ও মানসিক দৃঢ়তা বাস্তবসম্মতভাবে ফুটে ওঠে৷

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর, নিজের জন্মদিন উপলক্ষে সলমন খান ছবিটির প্রথম টিজার প্রকাশ করেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়৷ টিজারে লাদাখের দুর্গম পাহাডি় পরিবেশ, সীমান্ত উত্তেজনা এবং সেনাদের সাহসিকতার ঝলক দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে৷ ছবিটি পরিচালনা করছেন বলিউডের পরিচিত পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া, যিনি আগে একাধিক অ্যাকশন ও বাস্তব ঘটনাভিত্তিক সিনেমা নির্মাণের জন্য পরিচিত৷ তাঁর পরিচালনায় এই ছবিতে শুধু অ্যাকশন নয়, বরং দেশপ্রেম, ত্যাগ এবং সীমান্তে কর্মরত সৈনিকদের কঠিন বাস্তবতার গল্পও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে৷ তবে টিজার প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়৷ বিশেষ করে চিনা সংবাদমাধ্যমের একাংশ দাবি করে যে ছবিতে গালওয়ান সংঘাতের ঘটনাকে বিকৃতভাবে দেখানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ এমনকি কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকও মনে করেন, বাস্তব সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে তৈরি সিনেমা প্রায়ই কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয় হয়ে ওঠে৷

তবে বিতর্ক সত্ত্বেও সলমন খানের ভক্তদের উত্তেজনা এতটুকু কমেনি৷ বরং ছবির নতুন নাম ঘোষণা এবং পোস্টার প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও বেডে়ছে৷ সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির নতুন পোস্টার প্রকাশ করা হলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়৷ পোস্টারে দেখা যায় সেনা পোশাকে কঠোর ও দৃঢ়চেতা রূপে সলমন খানকে, যা দর্শকদের মনে এক নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে৷ বলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই সলমন খানের অ্যাকশন সিনেমা বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে৷ তাঁর ক্যারিয়ারের একাধিক ব্লকবাস্টার ছবি যেমন ‘টাইগার জিনদা হ্যায়’, ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ কিংবা ‘এক থা টাইগার’ প্রমাণ করেছে যে বড় মাপের অ্যাকশন ও দেশাত্মবোধক গল্পে দর্শকের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে৷ তাই নতুন ছবিটি নিয়েও একই ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে৷

এই ছবির আরেকটি বড় আকর্ষণ হল এর সংগীত৷ ইতিমধ্যেই ছবির দেশাত্মবোধক গান ‘মাতৃভূমি’ প্রকাশের পর দর্শকদের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলেছে৷ গানটির কথা ও সুরে দেশপ্রেমের আবেগ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে৷ অনেকেই মনে করছেন এই গান ছবির আবেগঘন মুহূর্তগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে৷ একই সঙ্গে ছবিতে লাদাখের কঠিন পার্বত্য পরিবেশ, সেনাদের দৈনন্দিন সংগ্রাম এবং সীমান্তের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে৷

ছবির নাম পরিবর্তন নিয়ে যদিও এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে, তবুও বিশ্লেষকদের মতে এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্তও হতে পারে৷ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে অনেক সময় সিনেমার নাম বা উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়, যাতে কোনও নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ইঙ্গিত না থাকে৷ ‘মাতৃভূমি : মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ নামটি তুলনামূলকভাবে আরও মানবিক ও আবেগঘন বার্তা বহন করে, যেখানে যুদ্ধের গৌরবের পাশাপাশি শান্তির আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ পায়৷

সব মিলিয়ে বলা যায়, মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে উত্তেজনা, বিতর্ক এবং কৌতূহল – সবকিছুর মিশেল তৈরি হয়েছে৷ বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত দেশাত্মবোধক গল্প, বলিউডের সুপারস্টার সলমন খানের উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির ছায়া – এই সব উপাদান মিলিয়ে ছবিটি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে৷ এখন দেখার বিষয়, ১৭ এপ্রিল বড়পর্দায় মুক্তির পর দর্শকরা ছবিটিকে কীভাবে গ্রহণ করেন এবং এটি বক্স অফিসে কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারে৷ তবে একটি বিষয় নিশ্চিত – ভারতীয় সেনাদের সাহসিকতার গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমা মুক্তির আগেই দর্শকদের কৌতূহল ও প্রত্যাশাকে অনেকটাই বাডি়য়ে দিয়েছে৷

Exit mobile version